শহর কিংবা গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইন জুয়ার মহামারী।
শহর কিংবা গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইন জুয়ার মহামারী, রাত যত গভীর হয় অন্ধকার দুনিয়ার অলিগলিতে চলে হাজার হাজার কোটি টাকার জোয়া খেলা,হাতে থাকা স্মার্ট ফোনটি যখন বিনোদনের মাধ্যম হওয়ার কথা ঠিক তখনই হয়ে উঠেছে নিঃশ্ব হওয়ার মরন ফাঁদ,এটি একটি মানসিক ফাঁদ। সাধারণ মানুষ ভাবে মাত্র কয়েক পয়সা গেলে কি আসে যায়? কিন্তু এই সামান্য অভ্যাসই একসময় ভয়ঙ্কর আসক্তিতে রূপ নেয়।এখন এটি একটি সামাজিক মহামারীতে পরিণত হয়েছে। ফেসবুক, ইউটিউব বা বিভিন্ন অ্যাপের বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পড়ে সাধারণ মানুষ দ্রুত বড়লোক হওয়ার আশায় এই নেশায় জড়াচ্ছে। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণ সমাজ এই মরণনেশার প্রধান শিকার। অনেক শিক্ষিত ও অর্ধ-শিক্ষিত বেকার যুবক হতাশা থেকে মুক্তি পেতে বা ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে গিয়ে এই পথে পা বাড়াচ্ছে। যেখানে জমানো টাকা শেষ করে অনেকে শেষ পর্যন্ত সুদে ঋণ নিচ্ছে, এমনকি ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি করে দিচ্ছে এছাড়া জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে চুরি, ছিনতাই এবং পারিবারিক কলহের মতো ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। সব হারিয়ে অনেক তরুণ বিষণ্ণতায় ভুগছে এবং চরম পর্যায়ে আত্মহত্যার মতো পথ বেছে নিচ্ছে।এই মহামারী থেকে সমাজকে বাঁচাতে হলে কেবল আইন দিয়ে হবে না, প্রয়োজন সম্মিলিত সচেতনতা, সন্তান বা পরিবারের সদস্যরা ইন্টারনেটে কী করছে এবং তাদের আচরণে কোনো পরিবর্তন আসছে কি না, সেদিকে অভিভাবকদের কড়া নজর রাখতে হবে। মসজিদের ইমাম, শিক্ষক এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে জুয়ার কুফল সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে হবে। অবৈধ জুয়ার সাইটগুলো বন্ধে প্রশাসনের আরও কঠোর ভূমিকা প্রয়োজন।সবশেষে বলতে চাই অনলাইন জুয়া একটি চোরাবালি। এখানে একবার পা দিলে বেরিয়ে আসা অত্যন্ত কঠিন। শহর কিংবা গ্রাম—সবখানেই এই ধ্বংসাত্মক নেশার বিরুদ্ধে এখনই রুখে দাঁড়ানোর সময়। নচেৎ, একটি সম্ভাবনাময় প্রজন্মের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের অতলে হারিয়ে যাবে।
#অনলাইন #জোয়া #শ্রীবরদী #তরুন #সমাজ #আমাদের শ্রীবরদী

আজকের আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url