ড্রেন আছে, নিষ্কাশন নেই, পৌরসভার ‘ভুল’ পরিকল্পনায় শ্রীবরদী দহেরপাড়-খামারিয়াপাড়াবাসীর দীর্ঘশ্বাস।
দীর্ঘ দুই থেকে তিন বছর আগে জনস্বার্থে ড্রেন নির্মাণ করা হলেও, সঠিক পরিকল্পনার অভাবে তা এখন এলাকাবাসীর জন্য অভিশাপে পরিণত হয়েছে। শ্রীবরদী কাঁচাবাজার থেকে দহেরপাড়-খামারিয়াপাড়া রোডে নির্মিত এই ড্রেনটির পানি বের হওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট পথ না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই বাজার ও ড্রেনের পচা পানি ঢুকছে মানুষের বসতবাড়িতে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রেনটি করার সময় পানি কোথায় গিয়ে পড়বে বা কীভাবে নিষ্কাশন হবে, সে বিষয়ে বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে ড্রেনটি এখন মশার প্রজনন কেন্দ্র এবং দুর্গন্ধযুক্ত পচা পানির ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। বৃষ্টির সময় এই নোংরা পানি উপচে পড়ার কারণে একদিকে যেমন জনস্বাস্থ্য হুমকিতে পড়ছে, অন্যদিকে মানুষের ঘরে পানি ঢুকে আসবাবপত্র ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
ক্ষুব্ধ এক বাসিন্দা জানান, "ড্রেন দিয়েছে কিন্তু পানি যাওয়ার রাস্তা নেই—এমন বুদ্ধিহীন কাজ কীভাবে সম্ভব? ড্রেনের পচা পানিতে আমাদের ঘরে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। যদি দ্রুত এই পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করা হয়, তবে আমরা এই নোংরা পানি বালতিতে করে নিয়ে গিয়ে পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দপ্তরে পৌঁছে দেব। শুধু জলাবদ্ধতাই নয়, পানি জমে থাকায় রাস্তার তলার মাটি সরে গিয়ে পিচ ও খোয়া উঠে যাচ্ছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কয়েকদিনের মধ্যেই এই রাস্তাটি চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়বে এবং সরকারের বড় অংকের অর্থের অপচয় হবে। পৌরসভার এমন "অপরিকল্পিত" উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকায় এমন অদূরদর্শী কাজ কেন করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিকরা। তারা দ্রুত এই ড্রেনের পানি কোনো খাল বা বড় নালায় সংযোগ করে দেওয়ার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন,অন্যথা এলাকাবাসী কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, পৌর কর্তৃপক্ষ কবে এই ভোগান্তি নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

আজকের আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url